শিক্ষক শ্রদ্ধাঞ্জলী ।। শুভ শিক্ষক দিবস

শুভ শিক্ষক দিবস

আমি একজন শিক্ষার্থী I শিক্ষা গ্রহণ এবং তাকে আত্তীকরণ করা আমার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য I শিক্ষা মানুষের জীবনে জ্ঞানের আলোর বিকাশ ঘটায় I শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ যেমন জ্ঞানের বিকাশ সাধন করে তেমনি বিভিন্ন কুসংস্কার, কু-বৃত্তি ও আদিম প্রবৃত্তিগুলো দমন করে নিজের ও সমাজের কল্যাণ সাধন করতেও সক্ষম হন I

বলা হয় ‘শিক্ষা জাতীর মেরুদণ্ড’ I আর সেই মেরুদণ্ডের দৃঢ়তা জাতীর কাছে চির কাম্য I আমরা শিক্ষা জীবন শুরু করি এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে তীক্ষ্ণ আলোকরশ্মির উৎস সন্ধানে I জীবনের প্রতিটি চড়াই-উতরাইয়ে জ্ঞানের রেনু সংগ্রহ করতে করতে একটু একটু করে অগ্রসর হই সেই উৎসের দিকে I আর এই সুদীর্ঘ পথের সর্বদা পথপ্রদর্শক একজন আদর্শ শিক্ষক, যাঁদের মার্গ দর্শনে এই পথযাত্রা হয়ে উঠে জ্ঞানময়, কৌতুহল জনক, কল্যাণময় ও মাধুর্য ময় I

শুভ শিক্ষক দিবস

শাস্ত্র বলে ‘ছাত্রানাং অধ্যায়নং তপঃ’; আর শিক্ষাবিদদের মতে এই তপস্যার সূচনাকার হলেন ‘মা’ I আজ এই শিক্ষক দিবসের শুভ মূহুর্তে আমার আদি শিক্ষক মা’র জণ্য রইলো শত সহস্র প্রণাম I মায়ের কোলে যে শিক্ষার সূচনা হয় তা ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে বিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন আদর্শ শিক্ষকের তত্বাবধানে; আজ শিক্ষক দিবসের এই মঙ্গলময় শুভক্ষণে তাঁদের সশ্রদ্ধ প্রণাম জ্ঞাপন করি I

ভূতপূর্ব থেকে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার অন্যতম স্তম্ভ শিক্ষক I তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরন্তর-অনবদ্য প্রচেষ্টা এবং নিগূঢ় সহানুভূতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জীবন জ্ঞানের আলোয় ভরে উঠে I বিষয়গত, পারিপার্শ্বিক ও বিমূর্ত বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষককূল শিক্ষার্থীর জ্ঞান পিপাসার আগ্রহকে যেমন বাড়িয়ে তুলেন তেমনি জ্ঞানের বিকাশের পূর্ণতা প্রদানেও নিরবিচ্ছিন্ন সাহায্য করে চলেন I জাতীর গঠনে, বিকাশে ও মানোন্নয়নে শিক্ষককূল তাঁর সমস্ত সত্বা উজাড় করে দেন শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে I তাই তো, শিক্ষা যদি জ্ঞানলাভের রথ হয় তবে সেই রথের সারথী হলেন আদর্শ শিক্ষক I আর আজকের দিনটি পূর্ণাঙ্গরূপে তাঁদের জণ্য রাষ্ট্র-জাতি দ্বারা উত্সর্গীত I
কিন্তু কেনো ??

1888 সালের আজকের দিন, অর্থাৎ 5ই সেপ্টেম্বর বর্তমান তামিলনাড়ুর এবং তত্কালীন মাদ্রাস প্রেসিডেন্সীর তীরুত্তানী গ্রামে ব্রাহ্মণ পরিবারে সর্বপল্লী বীরস্বামী ও সর্বপল্লী সীতা দেবীর সন্তান সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন জন্মগ্রহণ করেন I তীরুত্তানী K.V High School থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাদ্রাস খ্রিস্টান কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন I উচ্চশিক্ষায় তাঁর পাঠ্যবিষয় ছিল দর্শণ এবং তাতে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন I তিনি 20 বছর বয়সে Dr.Alfred George Hogg এর নির্দেশনায় দর্শন বিষয়ে “The Ethics of the Vedanta and its Metaphysical Presupposition” নামক গবেষণাপত্র প্রস্তুত করেন যা তাঁর এক অনবদ্য অবদান I 1909 সালে তিনি মাদ্রাস প্রেসিডেন্সী কলেজের দর্শণ বিভাগে শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন I এরপর তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রোথিত করেন এক স্বতন্ত্র শিক্ষাধারা I 1931 সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন I 1946-52 পর্যন্ত তিনি Unesco তে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেন I

শিক্ষার মনোনয়নে স্বাধীন ভারতে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয় 1948 সালে এবং তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় 1949 সালের আগস্টে I এই কমিশনের চেয়ারপারসন ছিলেন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন I তিনিই প্রথম শিক্ষাকে ভারতীয়করণের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পূর্বে 12 বছরের শিক্ষা স্তরের প্রবর্তনের কথা উল্লেখ করেন I তাঁরই মতামতের ভিত্তিতে UGC এর মতো শিক্ষা নিয়ামকের সূচনা হয় I বলাই যায় ভারতীয় এই শিক্ষাবিদ ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন I

দেশের টানে রাজনীতিতে প্রবেশকারী রাজনৈতিক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন 1952 সালে প্রথম ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হিসবে শপথ নেন এবং 1962 সালে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বচিত হয়ে 1967 পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদ অলংকৃত করেন I ইতিপূর্বে তিনি 1954 সালে ‘ভারত রত্ন’ উপাধিতে ভূষিত হন I

শিক্ষাবিদ দের মতে একজন আদর্শ শিক্ষক প্রকৃতপক্ষে একজন আদর্শ দার্শনিক, আদর্শ বন্ধু এবং পথপ্রদর্শক I তিনি তো দার্শনিক ছিলেনই একই সাথে তিনি যে একজন আদর্শ পথপ্রদর্শক ও সহানুভূতিপূর্ণ মহানুভব ছিলেন একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা I তাই এই আদর্শ শিক্ষক তথা ভারতরত্ন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর অনুগামী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগণিত শিক্ষার্থী তাঁর কাছে তাঁর জন্মদিন পালনে বায়না ধরলে তিনি তাদের চাপে সম্মতি দিয়ে বলেন “Instead of celebrating my birthday it would be my proud privilege if September 5th observed as a Teacher’s Day.” এবং তখন থেকেই ভারত রাষ্ট্র-জাতি 5 th September দিনটি উৎসর্গ করে শিক্ষক দিবস হিসাবে শিক্ষক সম্মানে I

মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষক ও শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত সকল ব্যক্তিদের জানাই শতকোটি প্রণাম

উপস্থাপনায়ঃ গোপাল মণ্ডল (সহকারী সম্পাদক, মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া)।
হার্দিক শ্রদ্ধাঞ্জলীঃ মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া গ্রুপ ।।

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

error: মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত