বিশ্বের দীর্ঘতম মাটি নির্মিত বাঁধ, হীরাকুদ

নদীমাতৃক ভারতে ‘মৌসুমী বায়ু’র প্রভাবে খরা এবং বন্যা ছায়া সঙ্গী I কখনো খরার প্রভাবে দেশের প্রাথমিক উৎপাদন  বিঘ্নিত আবার কখনো বন্যা চুপিসারে লুঠতরাজ চালায় I ফি বছর কোন না কোন অঞ্চল যেমন বন্যায় ভাসে তেমনি প্রয়োজনীয় জলের সহজলভ্যতার অভাবে কৃষি থেকে স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন হয়ে উঠে I এই দুইই রোধ করা যায় একই পরিকল্পনার সাহায্যে যা নদী পরিকল্পনা নামে পরিচিত I ভারতে স্বধীনতার সময় (1947) বৃহৎ বাঁধের সংখ্যা ছিল প্রায় 300 টি I যা বর্তমানে প্রায় 4000 ছাড়িয়ে গেছে I এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বা 2000 বাঁধ নির্মাণ হয় 1971-89 এর মধ্যে I বর্তমানে ভারত বিশ্বে বাঁধ নির্মাণকারী দেশ হিসেবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে I ভারতের প্রায় 96% বাঁধের মূল লক্ষ্যই হল বন্যা রোধ করা এবং কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় জলের যোগান দেওয়া I ভারতে বাঁধ নির্মাণ মূলতঃ বহুমুখী পরিকল্পনায় দুই ক্ষেত্র থেকে হয়ে থাকে যথা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প এবং রাজ্য সরকারের প্রকল্প I ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের অধীনে গঠিত হয় পৃথিবীর মাটি নির্মিতি দীর্ঘতম বাঁধ I


1937 সালের ওড়িশা বন্যার পূর্বে নিম্ন মহানদী অববাহিকায় বন্যা ও উচ্চ অববাহিকার ছত্তিশগড় সমভূমিতে খরা সমস্যা সমাধানের জন্য স্যার মোক্ষগুণ্ডম বিশ্বেশ্বরায়া তাঁর “Planned Economy for India” নামক গ্রন্থে 1934 সালে মহানদী অববাহিকায় বাঁধ নির্মাণের প্রথম প্রস্তাব রাখেন I এরপর 1945 সালে পরাধীন ভারতে তত্কালীন ‘Member of Labour’ এর Chairman ডঃ বি.আর.অম্বেদকরের তত্বাবধানে মহানদী অববাহিকায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি স্থির হয় এবং 15ই মার্চ 1946 সালে তৎকালীন  উড়িষ্যার গভর্নর Sir Hawthorne Lewis মহানদী অববাহিকায় বাঁধের শিলাপত্তন করেন I

এর প্রায় দুই বছর পর বা স্বধীনতার পরেই 1948 সালের 12 ই এপ্রিল বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয় তৎকালীন  প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর হাতে I স্বাধীন ভারতের ইহা অন্যতম প্রথম বাঁধ, যার মূল অংশের কাজ সম্পন্ন হয় 1955 সালের জুন মাসে I সম্পূর্ণ বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয় 1957 সালে এবং এই বছরেই 13 ই জানুয়ারী তৎকালীন  প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বাঁধটির উদঘাটন করেন I সেই সময়ে 1957 সালে প্রায় 1,000.2 লক্ষ টাকায় নির্মিতি হয় বিশ্বের দীর্ঘতম মাটি নির্মিতি বাঁধ ‘হীরাকুদ’
হীরাকুদ বাঁধ ওড়িশার মহানদী নদীর উপর অবস্থিত একটি বহুমুখী পরিকল্পনা ও ভারতের দীর্ঘতম বাঁধ I

এই বাঁধের মোট দৈর্ঘ্য 25.8 কিঃমিঃ যার মাত্র 4.8 কিঃমিঃ (মূল অংশ) কংক্রিট নির্মিতি এবং অবশিষ্ট 21 কিঃমিঃ সম্পূর্ণ রূপে মাটি দ্বারা নির্মিতি যা মহানদীর বাম পার্শ্বের লাম ডুংরী এবং ডান পার্শ্বের চাণ্ডীলি ডুংরী নামক দুটি পাহাড়কে যুক্ত করেছে এবং যা বিশ্বের বৃহত্তম মাটি নির্মিতি বাঁধ হিসাবে পরিচিত I বাঁধটি ওড়িশার ‘ধানের গোলা’ সম্বলপুর জেলায় সম্বলপুর থেকে 14 কিঃমিঃ দূরে 21 ডিগ্রি 34 মিনিট উত্তর ও 83 ডিগ্রি 52 মিনিট পূর্ব এবং 21 ডিগ্রি 57 মিনিট উত্তর ও 83 ডিগ্রি 87 মিনিট পূর্ব ভৌগোলিক ক্ষেত্রে 83,400 বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত I বাঁধের উচ্চতা 60.96 মিটার বা 200 ফুট I বাঁধ নির্মাণের সময় 18,100,000 ঘনমিটার মাটি কেটে বাঁধটি নির্মাণ হয় যা পুরোটাই মানুষের দ্বারা I তাই একে এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্তিম হ্রদ ও বলা হয় I বাঁধটির মোট জলধারন ক্ষমতা 5,896,000000 ঘনমিটার যার দ্বারা 1956 সাল থেকে 2355 বর্গকিলোমিটার কৃষি অঞ্চলে সেচের জলের যোগান দেওয়া হয় বারগড় (প্রধান) খাল,সসুন খাল ও সম্বলপুর খালের মাধ্যমে I হীরাকুদ বাঁধ নির্মাণের ফলে মহানদীদ্বীপ অঞ্চলের পুরী ও কটকের 9,500 বর্গকিলোমিটার অঞ্চলকে বন্যা নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হয়েছে I ওড়িশার দেবরীগড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচ্যুয়ারী এই বাঁধে অবস্থিত I

তথ্যসূত্র :- ইন্টারনেট।।
লেখকঃ গোপাল মণ্ডল।।

©মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া 

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 381
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    381
    Shares

One thought on “বিশ্বের দীর্ঘতম মাটি নির্মিত বাঁধ, হীরাকুদ

  • May 12, 2018 at 3:52 pm
    Permalink

    তথ্য ভান্ডার পরিপুর্ণ। সকল শ্রেনির পাঠকের দারুন কাজে লাগবে। পত্রিকার প্র্চার বৃদ্ধি কামনা করি।

    Reply

মন্তব্য করুন

error: মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত