বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত কর্মীর পোশাক ও নাম

জীবনধারণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত থেকে সম্পদ উৎপাদন, বন্টন, বিনিময়, ব্যবহার ও পরিসেবার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মানুষের বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক কার্যকলাপকে  “অর্থনৈতিক কার্যাবলী” বলে। এর মাধ্যমে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, অর্থ উপার্জন করে সমাজের চাদিদা মেটায়, সম্পদের উপযোগিতা বৃদ্ধি পায়, মানুষের স্বনির্ভর হয়, দেশ ও সমাজের আর্থ-সামাজিক বিকাশ ও উন্নতি ঘটে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তাই অর্থনৈতিক কাজকে  “সামাজিক কাজ (Social Work)”  বলে।

আরও “ভূগোলের জিকে ভাণ্ডার।। প্রথম পর্ব ৫০০টি প্রশ্ন ও উত্তর।।”

বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যাবলীর সঙ্গে নিযুক্ত কর্মীদের পোশাক ও পোশাকের রঙ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সমস্ত কর্মীদের পোশাক ও পোশাকের রঙ।

একনজরে বিভিন্ন পোশাকের কর্মী

1. লাল পোশাকের কর্মী (Red-Collar Worker): প্রাথমিক স্তরের কাজে নিযুক্ত কর্মীদের Red-Collar Worker বলে । কারণ এদের সব সময় বাড়ির বাইরে রোদে-জলে কাজ করতে হয় । যেমন- কৃষক বা কৃষিকাজে নিযুক্ত কর্মী ।

2. নীল পোশাকের কর্মী (Blue-Collar Worker): এই শব্দটি প্রথম 1924 সালে ব্যবহৃত হয় । গৌণ স্তরের কার্যে (Secondary Activities) নিযুক্ত শ্রমিকদের Blue-Collar Worker বলে । যেমন- কলকারখানা বা শিল্পের কাজে নিযুক্ত শ্রমিক ।

3. কালো পোশাকের কর্মী (Black-Collar Worker): কয়লা ও খনিজ তেল উত্তোলনের কার্যে নিযুক্ত শ্রমিকদের Black-Collar Worker বলে । কিছু ক্ষেত্রে, এটি ব্যবহার করা হয় যারা কালোবাজারী কার্যকলাপের সাথে যুক্ত ।

4. গোলাপী পোশাকের কর্মী (Pink-Collar Worker): এই শব্দটি প্রথম 1990-এর দশকের শেষের দিকে লেখক ও সামাজিক সমালোচক লুইস হোভের দ্বারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । সেবাক্ষেত্রের কার্যে (Tertiary Activities) নিযুক্ত কর্মীদের Pink-Collar Worker বলে ।
উদাঃ- Nurses, Secretaries, Elementary School Teacher etc.

5. সাদা পোশাকের কর্মী (White-Collar Worker): এই শব্দটি প্রথম 1930 সালে Upton Sinclair ব্যবহার করেন । উচ্চ মেধা সম্পন্ন কোয়াটারনারী কাজের (Quaternary Activities) সাথে যুক্ত মানুষদের White-Collar Worker বলে । এরা একটি বেতনভোগী পেশাদার ।
উদাঃ-IT শিল্পে নিযুক্ত কর্মী, PSC, SSC, পর্যটন ও বিনোদন শিল্পে নিযুক্ত কর্মী ।

6.স্বর্ণালি পোশাকের কর্মী (Gold-Collar Worker): Robert Earl Kelley তাঁর রচিত “THE GOLD-COLLAR WORKER”(1985) বইতে ‘Gold-Collar Worker’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন । এই নবগঠিত শব্দগুছ সেইসব তরুণ ও কমবেতনভুক্ত কর্মীদের নির্দেশিত করে, যারা শ্রমব্যয় করে আকর্ষণীয় সমৃদ্ধিলাভের ক্রিয়াকলাপে । অতি-উচ্চশিক্ষিতব্যক্তি কিংবা সমাজে ও কর্মস্থানে বিশেষ সম্মানীয় ব্যক্তিগণ Gold-Collar Worker নামে প্রসিদ্ধ ।
উদাঃ- Lawyer, Doctors, Research scientists প্রমুখ ।

7. হলদে পোশাকের কর্মী (Yellow-Collar Worker): সৃজনীমূলক কাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তি যারা blue-collar ও white-collar কাজ করার পাশাপাশি চারদেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে সৃষ্টিমূলক কাজও করে থাকে, তাদের ‘Yellow-Collar Worker’ বলে ।
উদাঃ- Photographers, Filmmakers, Directors, Editors etc.

8. সবুজ পোশাকের কর্মী (Green-Collar Worker): প্রাকৃতিক উপাদানগুলিকে(সৌররশ্মি,জল,বায়ু প্রভৃতি) অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহারপোযোগী করে তোলার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের ‘Green-Collar Worker’ বলে । এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন Patrick Heffernan (1976) .
উদাঃ- Solar panels, Greenpeace, World wide fund for nature –এ কর্মরত শ্রমিক ।

9. কমলা পোশাকের কর্মী (Orange-Collar Worker): নগরবাসী কর্তৃক ধৃত কারাবাসী শ্রমিকরা(Prison Labours) কমলা রঙের পোষাক পরে সকলে মিলেমিশে (orange jump suits) কাজ করার জন্য তাদের এরূপ নামকরণ হয়েছে ।

10. ধূসর পোশাকের কর্মী (Gray-Collar Worker): অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা ‘Gray-Collar Worker’ নামে পরিচিত । অর্থাৎ যেসব ব্যক্তি কোনো কাজ থেকে retirement-এর পর পুনরায় কোনো কাজে নিযুক্ত হয় তাদের ‘Gray-Collar Worker’ এবং সেই কাজটিকে বলা হয় Gray-Collar Work ।
উদাঃ- Fire fighters, Police officers, Health-care professional, security guards etc.

11. রক্তিম পোশাকের কর্মী (Scarlet-Collar Worker): পর্ণগ্রাফি শিল্পকর্মের সাথে যুক্ত কর্মীদের ‘Scarlet-Collar Worker’ বলে । এই কর্মের প্রতি মহিলাদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায় । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, Scarlet বা রক্তিম বর্ণ সবভাবতই ব্যভিচারকে নির্দেশ করে ।

12. Open-Collar Worker: এই কর্মীরা প্রধানত internet-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় কাজ করে থাকে । যেমন: আউটসোর্সিং, ইউটিউবার, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট।

13. রং হীন পোশাকের কর্মী ( No-Collar Worker): সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেও যেসকল ব্যক্তি economic activity থেকে বিচ্যুত রয়েছেন (অর্থাৎ শিক্ষিত বেকার), তাদের বলা হয় ‘No-Collar Worker’ । বর্তমানে ভারত ও আমেরিকাতে এটি একটি উদীয়মান ও ক্রমোচ্চ প্রসারিত শ্রেণীরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে ।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের পোস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই মিশন টজিওগ্রাফি ইন্ডিয়া এর পাশে থাকুন।

আরও দেখুন “মৃত্যু লালগড়ের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের, ক্ষতিগ্রস্ত হলো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র”

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 63
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    63
    Shares

Leave a Reply

One thought on “বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত কর্মীর পোশাক ও নাম

মন্তব্য করুন

error: মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত