বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ – ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে

বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে

পরিবহন কোন দেশের উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাটি। পরিবহন ব্যবস্থাগুলির মধ্যে স্থলপথে সড়কপথ ও রেলপথ অন্যতম মধ্যম। এর মধ্যে দ্রুততম মধ্যম হল রেলপথ পরিবহন। বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম রেলপথ নির্মিতি হয় ইংল্যান্ডে, স্টকটন ও ডার্লিংটনের মধ্যে। এর পর এই প্রযুক্তি ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে রেলপথ বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম (বিশ্বের 26%) স্থানাধিকারী, রাশিয়া দ্বিতীয় (10%), কানাডা তৃতীয় এবং ভারত চতুর্থ।

বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ - ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে
চিত্রঃ ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে

ঊনবিংশ শতকে রাশিয়ার অনুন্নত পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে দেশের উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হলে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে রেল পথের বিস্তারে গুরুত্ব আরোপ করে এবং রাশিয়ান সরকারের মন্ত্রীপরিষদের তরফে 1980 র দশকের শেষে Tsar Alexander III নামক জনৈক ব্যক্তিকে এই কর্মযজ্ঞে পৌরহিত্য প্রদান করা হয়। এর পর তাঁরই পুত্র Tsar Nicholas II 1890 সালে রাশিয়ায় মহাদেশীয় রেল ব্যবস্থা গড়েতোলার প্রস্তাব রাখে এবং তা 9 মার্চ 1891 এ স্বীকৃতি পায়। ঐ বছর 19 মে Tsar Nicholas II এর তত্বাবধানে রাশিয়া রেলপথ বিস্তারের কাজ শুরু হয় এবং 25 বছর কর্মযজ্ঞ চলার পর 1916 সালে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে ।

বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ - ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে
চিত্রঃ ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে

পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ পৃথিবীর দীর্ঘতম রেলপথ যার মোট দৈর্ঘ্য 9,289 কিঃমিঃ। রেলপথটি পশ্চিমে লেলিনগ্রাদের বাল্টিক থেকে আরম্ভ হয়ে পূর্বে ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত 100 এর অধিক ছোটবড় শহরকে সংযুক্ত করেছে। রেলপথটি মঙ্গোলিয়া, চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শাখা পথে যুক্ত। মস্কো হল এই রেলপথের প্রধান কেন্দ্র। 1945 সালে রেলপথটিকে ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তরিত করা হয়। এই রেলপথের ওমস্ক থেকে নভোসিবির্স্ক পর্যন্ত প্রায় 600 কিঃমিঃ অংশ পৃথিবীর ব্যস্ততম রেলপথ। রেলপথটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হল -লেলিনগ্রাদ, কিলিনিন, লিখোস্লাভ, মস্কো, কাজান, এস.ভার্জলাভষ্ক, কারগন, ওমস্ক, তাইসেক, ইরকুত্ষ্ক, ঊনান-উদে, চিঢা, ভ্লাদিভস্তক ইত্যাদি। রেলপথটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হল ‘Ural Region Branche’, ‘Kuzbas Region Branche’, ‘Central Siberian Branch’ এবং ‘Amur Valley Branch’ ইত্যাদি। এই রেলপথ দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে প্রায় 220 ঘন্টায় যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম। এর মাধ্যমে সাইবেরিয়া অঞ্চলের কয়লা, আকরিক লোহা ম্যাঙ্গানিজ, প্লাটিনাম, সোনা, ইউরেনিয়াম, বনজ ও কৃষিজাত দ্রব্য পরিবাহিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন শাখা পথের মাধ্যমে বনজ দ্রব্য, গম মাখন, মাংস, চামড়া, কাঠ, খনিজ পদার্থ প্রভৃতি ইউরোপীয় রাশিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শিল্পজাত দ্রব্য নিয়ে আসা হয়।

–গোপাল মণ্ডল (সহকারী সম্পাদক, মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া)

#বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ #ভৌগোলিক তথ্য

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 161
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    161
    Shares

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

error: মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত