জনসংখ্যা ভূগোল সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর

1. জনসংখ্যা কাকে বলে ?/জনসংখ্যা ভূগোল কাকে বলে ?

উত্তর> মানবীয় ভূগোলের এক গুরুত্বপূর্ণ উপজীব্য বিষয় হল জনসংখ্যা I কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার একক জনগোষ্ঠীকে জনসংখ্যা বলে I আবার “জনতার গঠন, বন্টন, পরিযান এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি কিভাবে কোন স্থানের সাথে সম্পর্কিত অর্থাত্ স্থানিক পার্থক্য নির্ণয়ই হল জনসংখ্যা ভূগোল I

2. জন ঘনত্ব কাকে বলে ?
উত্তর> জনসংখ্যার ঘনত্ব হল একটি পরিসংখ্যানগত ধারণা যা মোট জমির আয়তন ও জনসংখ্যার পরিমাণের অনুপাত I অর্থাত্ জনঘনত্ব বলতে বোঝায় কোন অঞ্চলের বা কোন দেশের প্রতি বর্গ কিঃমিঃ তে মোট জনবসতির পরিমাণকে I যেমন ধরা যাক 2011 সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যা ছিল 121,01,93,442 জন, ভারতে মোট জমির পরিমাণ 32,87,263 বঃ কিঃমিঃ I এতএব ভারতের জনঘনত্ব হল মোট জনসংখ্যা : মোট জমির পরিমাণ = 382 জন / বঃ কিঃমিঃ I

3. মানুষ-জমি অনুপাত কাকে বলে ?
উত্তর> কোন অঞ্চল বা দেশের মোট জনসংখ্যার সাথে মোট কার্যকর জমির অনুপাতকে বলাহয় মানুষ জমি অনুপাত I ইহা কোন দেশের সম্পদের প্রাচুর্যতা ও স্বল্পতার সূচক I
বৈশিষ্ট :- 1. জনঘনত্ব এবং মানুষ-জমি অনুপাত এক নয় I
2. ইহা জমির উত্পাদন ক্ষমতার উপর নির্ভর করে I
3. ইহা সর্বদা গতিশীল ও পরিবর্তনশীল I

4. জন ঘনত্ব ও মানুষ-জমি অনুপাতের পার্থক্য কী ?
উত্তর> i. কোন দেশের মোট জমির সাথে মোট জনসংখ্যার অনুপাতকে ঐ দেশের জনঘনত্ব, এবং দেশের মোট জনসংখ্যা ও মোট কার্যকর জমির অনুপাতকে মানুষ-জমি অনুপাত বলে I
ii. জনঘনত্বের দ্বারা দেশের কাম্য জনসংখ্যা এবং পোষণ ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায় না; কিন্তু মানুষ জমি অনুপাতে তা সম্ভব I
iii. জনঘনত্বে জনবসতির ব্যপকতা ও কার্যকরিতা এবং জমির উপর বন্টন জানা যায়; অপরদিকে মানুষ-জমি অনুপাতে জনবসতির তীব্রতা অর্থাত্ জমি অনুসারে মানুষের চাপ সমন্ধে জানা যায় I
iv. জনঘনত্ব দ্বিমাত্রিক; যেখানে মানুষ-জমি অনুপাতের ধারণা ত্রিমাত্রিক ধারণা I

5. কাম্য জনসংখ্যা কাকে বলে ?
উত্তর> যে পরিমাণ নির্দিষ্ট জনসংখ্যায় কোন দেশের সম্পদের সুষ্ঠ ও সরল বন্টনের মাধ্যমে সামাজিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনের মান উর্ধ সীমায় পৌঁছায় এবং মাথা পিছু আয় সর্বোচ্চ রূপ নেয় সেই জনসংখ্যাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে I কাম্য জনসংখ্যা একটি ধারণা যার মাধ্যমে মানুষজমির অনুপাতকে নির্দিষ্ট করা হয় I এরূপ জনসংখ্যা ইউরোপে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানী, উঃ আমেরিকা জাপান প্রভৃতি দেশে আংশিক লক্ষ্য করা যায় I কাম্য জনসংখ্যা ধারণার প্রবক্তা ক্যানন I

6. কাম্য জনসংখ্যার বৈশিষ্ট গুলি লিখুন I
উত্তর> অধ্যাপক ক্যানন ও সান্ডর্স প্রণীত কাম্য জনসংখ্যার কয়েকটি বৈশিষ্ট হল -i. এই তত্ব সর্বনিম্ন কল্যাণের স্তরের দ্বারা সূচিত হতে পারে I
ii. এই ধারণায় দেশের মাথাপিছু আয় সর্বাধিক হয় I
iii. এখানে প্রান্তিক উত্পাদন শূন্য এবং মোট উত্পাদন সর্বাধিক I
iv. তত্বটি স্থিতিশীল এবং কোন দেশের কাম্য জনসংখ্যার পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন I
v. এই তত্বে জনসংখা বৃদ্ধির হার সমন্ধে যানা যায় না I

7. স্বল্প জনসংখ্যা কাকে বলে ?
উত্তর> যদি কোন দেশে সম্পদের তুলনায় লোক সংখ্যা কম থাকে বা লোক সংখ্যার অভাবে সম্পদ সৃষ্টিতে অসুবিধা হয় তবে ঐ দেশের জনসংখ্যা আদর্শ নয়, এরূপ জনসংখ্যাকে স্বল্প জনসংখা বলে I অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইরাক, ইরান, তাইওয়ান প্রভৃতি দেশে এরূপ জনসংখ্যা লক্ষ্য করা যায় I

8. কাম্য জনঘনত্ব কাকে বলে ?
উত্তর> যখন কোন অঞ্চলের মানুষ-জমির আদর্শ অনুপাতের উপর ভিত্তি করে অঞ্চলটির প্রয়োজনীয় সঙ্গতির স্বাপেক্ষে যথার্থ ভারসাম্য স্থাপন করে তখন সেই জনঘনত্বকে কাম্য জনঘনত্ব বলে I জনঘনত্বের একটি নির্দিষ্ট মানের উপর ভিত্তি করে যখন অঞ্চলের সার্বিক উন্নতি সাধিত হয় তখন অঞ্চলটিতে কাম্য জনঘনত্ব বজায় রয়েছে বলে মনেকরা হয় I

9. জনাকীর্ণতা কাকে বলে ?
উত্তর> যখন কোন দেশের জনসংখা ঐ দেশের সম্পদের থেকে বেশী মাত্রায় পৌঁছায় এবং সম্পদ উত্পাদন ও বন্টনের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে অর্থনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবনকে প্রভাবিত করে মাথাপিছু আয় ও জমির কার্যকরিতাকে ক্ষুণ্ন করে তখন সেই জনসংখ্যা কে জনাকীর্ণতা বলে I তৃতীয় বিশ্বের দেশ ভারত বাংলদেশ, চিন পকিস্তান প্রভৃতি দেশে জনাকীর্ণতা লক্ষ্য করা যায় I

10. শূন্য জনসংখ্যা কাকে বলে ?
উত্তর> কোন দেশে যখন জন্ম ও মৃত্যূ হার সমান হয় তখন সেই দেশের জনসংখ্যাতে হ্রাস বা বৃদ্ধি না হয়ে স্থিতিশীল থাকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এরূপ দশাকে শূন্য জনসংখ্যা বলা হয় I এই অবস্থায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পূর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পেলে তাকে ধনাত্মক শূন্য জনসংখ্যা এবং হ্রাস পেলে তাকে ঋণাত্মক শূন্য জনসংখ্যা বলে
W.S.Thompson এর (1929) জনসংখ্যা ক্রম প্রতিপাদন অনুসারে পঞ্চম দশা হল শূন্য জনসংখ্যা I উদাহরণ : ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশের জনসংখ্যা I

11. জনসংখ্যা অভিক্ষেপ কাকে বলে ?
উত্তর> বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পেতে ভবিষ্যতে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তার পরিমাপের পূর্বাভাষ দেওয়াকে সাধারণ ভাবে জনসংখ্যা অভিক্ষেপ বলে I এই অভিক্ষেপের মাধ্যমে প্রকৃত জনসংখ্যা অবস্থানের কথা জানা সম্ভব হয় I এই পূর্বাভাস কিছুটা অনুমান ভিত্তিক I সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিচার করে অভিক্ষিপ্ত জনসংখ্যা নির্ণীত হয় I
যেমন :- 2025 পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবীর জনসংখ্যা 800 কোটি তে পৌঁছবে I

12. জন বিস্ফোরণ কাকে বলে ?
উত্তর> বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির ফলে হ্রাসমান মৃত্যূহার, অনৈতিক বর্ধিষ্ণু জন্মহার এবং সম্পদ সৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে বর্তমান বিশ্বে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাকে বলা যায় জন বিস্ফোরণ I এই জন বৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত থাকলে 2025 নাগাদ অভিক্ষিপ্ত জনসংখ্যা 800 কোটিতে পৌঁছবে I জনবিস্ফোরণ অর্থনৈতিক মানদণ্ডকে ধ্বংশ করে দেয় I

-গোপাল মণ্ডল ।। 
©Mission Geography India

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

Leave a Reply

Leave a Reply

error: মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত