রাম সেতু : বিজ্ঞান ও রামায়ণ

ভারতীয় সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে রাম সেতু (Rama Setu) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের দক্ষিণে তামিলনাড়ু রাজ্যের বৃহত্তম দ্বীপ – পাম্বান দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের ধনুষকোডি থেকে শ্রীলঙ্কার নর্দার্ন প্রভিন্সের মান্নার দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সেতু নিমজ্জিত শৈলশিরা, প্রবাল স্তূপ, চড়া — যা বালি ও অন্যান্য অসংঘবদ্ধ পদার্থ দ্বারা আবৃত এবং সমুদ্র জলতলের ওপরে স্থানবিশেষে দৃশ্যমান। ৪৮ কিমি (৩০ মাইল) দীর্ঘ এই সেতু মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালীকে পৃথক করেছে। এই অঞ্চলের কিছু কিছু অংশে গভীরতা খুবই কম, মাত্র ১ মিটার (৩ ফুট)। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে রাম সেতু হল – ‘A chain of shoals, coral reefs, a ridge formed in the region owing to thinning of the earth’s crust, a double tombolo, a sand spit, or barrier islands’। রাম সেতু আবার ‘আদমের সেতু’ (Adam’s Bridge), নল সেতু (Nala Setu), সেতু বন্ধন (Setu Bandhan) নামেও পরিচিত। বর্তমানে পাম্বান দ্বীপটি পাম্বান সেতু দ্বারা ভারতের মূল ভূ-খন্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং মান্নার দ্বীপটি একটি কজওয়ে দ্বারা শ্রীলঙ্কার মূল ভূ-খন্ডের সঙ্গে যুক্ত।

আদিকবি বাল্মীকি রচিত ‘রামায়ণ’ মহাকাব্যে সর্বপ্রথম এই সেতুর উল্লেখ পাওয়া যায়। পার্সিয়ান ভৌগোলিক ইবন খোরদাদবেহ্ (৮২০-৯১২) তাঁর ‘কিতাব আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক’ (Book of Roads and Kingdoms) গ্রন্থে এই সেতুকে ‘সেতু বান্ধাই’ (Setu Bandhai) নামে উল্লেখ করেন, যার অর্থ হল – ‘সমুদ্রের সেতু’ (Bridge of the Sea)। এটিই ছিল পশ্চিমী দুনিয়াতে রাম সেতুর প্রথম উল্লেখ। গঙ্গা রাম গর্গ রচিত ‘Encyclopedia of the Hindu World’ (১৯৯২) গ্রন্থ থেকে জানা যায়, প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দী অবদি পায়ে হেঁটে এই সেতু পার হওয়া যেত। স্থানীয় মন্দির রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ১৪৮০ সালে একটি সাইক্লোনে এই সেতু ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর পূর্বে এই সেতু পুরোপুরি সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে অবস্থান করত। আদ্রিয়ান রুম রচিত ‘Placenames of the World’ (২০০৬) গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৮০৪ সালে এক ব্রিটিশ মানচিত্রবিদ এই সেতুর ‘আদমের সেতু’ নামে চিহ্নিত প্রথম মানচিত্র প্রস্তুত করেন।

ভারতীয় সংস্কৃতির আকর রামায়ণ মহাকাব্যের সুন্দরকান্ডে এই সেতু বন্ধনের বর্ণনা রয়েছে। যার সংক্ষিপ্ত রূপ হল — সীতা উদ্ধারে লঙ্কার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য সমুদ্রতীরে বানর সেনা সহ শ্রী রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ পৌঁছান। সমুদ্র পারের উদ্দেশ্যে রাম সমুদ্রদেবতার তপস্যা শুরু করেন। তিনদিন তপস্যার পরও সমুদ্রদেবতা দেখা দিলেন না। অতঃপর রাম সক্রোধে ধনুকে অগ্নিবাণ এনে সমুদ্রকে শুকনো করতে উদ্যত হলেন। তখন সমুদ্রদেবতা উদয় হলেন এবং শ্রী রামচন্দ্রের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে সমুদ্রের ওপর সেতু নির্মাণের কথা বললেন। বানর সেনা প্রশ্ন করল, এই গভীর উত্তাল সমুদ্রের ওপর সেতু নির্মাণ কিরূপে সম্ভব? সমুদ্রদেবতা বললেন, প্রভু রামের নামে সবই সম্ভব। বানর সেনা দলে বিশ্বকর্মা পুত্র নল ও নীল রয়েছেন। তাঁরা ছেলেবেলায় এক ঋষি কর্তৃক শাপগ্রস্ত হন যে, তাঁরা যা কিছু জলে ফেলবেন সবই ভেসে থাকবে, কিছুই ডুববে না। তাই তাঁদের দিয়ে পাথর, গাছ প্রভৃতি দিয়ে সেতু নির্মাণ করুন। অতঃপর শ্রী রামচন্দ্র সেতু নির্মাণ শুরুর পূর্বে দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো করে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। বানর সেনা রাম নাম লিখিত শিলাগুলি সমুদ্রে নিক্ষেপ করতে থাকে এবং গাছ ও পাথর সহযোগে নির্মিত সেই সেতু সমুদ্রে ভাসমান থাকে। সেতু বন্ধনের এই কাজে ক্ষুদ্র জীব কাঠবেড়ালিও অংশ নিয়েছিল। এইভাবে পাঁচ দিনে লঙ্কার তট পর্যন্ত সেতু বন্ধনের কাজ সম্পন্ন হয়। তবে রামায়ণে শুধুমাত্র রাম সেতু নয়, রামেশ্বরম, ধনুষকোডি, দেবীপট্টনাম, থিরুপুল্লানি প্রভৃতি পার্শ্ববর্তী স্থানগুলিরও উল্লেখ রয়েছে।

রাম সেতু প্রাকৃতিক নাকি মানবসৃষ্ট – এনিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উনিশ শতকে রাম সেতু সৃষ্টি সম্পর্কে দুটি প্রাকৃতিক তত্ত্ব বিশেষ রূপে উঠে আসে — (১) স্থলভাগে উত্থান ও সঞ্চয়কার্য (২) ভারতের মূল ভূ-খন্ড থেকে শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নকরণ। ইসরো (ISRO) এর স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (SAC) এর সামুদ্রিক ও জল সম্পদ গোষ্ঠী (Marine and Water Resources Group) এর রিমোট সেনসিং তথ্যানুযায়ী, রাম সেতু একটি রৈখিক নকশায় ১০৩ টি ‘প্যাচ রিফ’ দ্বারা গঠিত। রাম সেতু গঠনে কোনো সর্বজনগৃহীত প্রাকৃতিক কারন নেই। বিভিন্ন গবেষক বিভিন্ন কারনের উল্লেখ করেছেন। যেমন — Block Faulting, Mantle Plume Activity, Eustatic Emergence, Sedimentation, Crustal Thinning, Longshore Drifting ইত্যাদি। রাম সেতুর বয়স কত? — এনিয়ে বিতর্ক রয়েছে। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI) এর ‘প্রজেক্ট রামেশ্বরম’-এ রেডিওকার্বন ডেটিং দ্বারা জানা যায়, রামেশ্বরম (ভারত) ও তালাইমান্নার (শ্রীলঙ্কা) মধ্যবর্তী অঞ্চলটি ৭০০০ থেকে ১৮০০০ বছর পুরানো। তামিলনাড়ুর ভারতীদসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর রিমোট সেনসিং (CRS) এর একটি দল রাম সেতুর বয়স নিয়ে গবেষণা করে। এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, রাম সেতুর বয়স ৩৫০০ বছর। ওই গবেষক দলের প্রধান এস. এম. রামাস্বামী বলেন, ‘as the carbon dating of the beaches roughly matches the dates of Ramayana, its link to the epic needs to be explored’। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ডিরেক্টর এস. বদ্রীনারায়ণের মতে, রাম সেতু কোনো প্রাকৃতিক গঠন হওয়া কার্যত অসম্ভব, কারন পুরো রাম সেতু জুড়েই প্রবাল গঠনের নিচে একটি অসংঘবদ্ধ বা ঝুরঝুরে বালির স্তর রয়েছে। ২০০৭ সালে ন্যাশনাল রিমোট সেনসিং এজেন্সির এক প্রকাশনায় বলা হয়, রাম সেতু মানবসৃষ্টও হতে পারে। ২০১৭ সালে ডিসকভারি সায়েন্স চ্যানেল তাদের ‘What on Earth?’ অনুষ্ঠানের ‘Ancient Land Bridge’ পর্বে দাবি করে, তামিলনাড়ুর ধনুষকোডি থেকে পক প্রণালী ধরে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত জলে ডুবে থাকা পাথরের সেতু প্রাকৃতিক নয়, মানুষের তৈরি। বলা হয়, উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংস্থা ‘নাসা’ দেখিয়েছে— দু’দেশের মধ্যে সমুদ্রের নীচে দিয়ে থাকা প্রাচীরের ওপরের দিকের পাথরগুলির প্রকৃতি একেবারেই আলাদা। সম্ভবত অন্য কোনও জায়গা থেকে এনে সেগুলি সেখানে বসানো হয়েছিল। আর্কিওলজিস্ট চেলসি রোজ জানান, ‘‘ওগুলি বেলে পাথর, সামুদ্রিক প্রবাল নয়। সুতরাং এর মধ্যে কোনও কাহিনী রয়েছে!’’ মার্কিন পুরাতাত্ত্বিকদের উদ্ধৃত করে ওই চ্যানেলে বলা হয়, দক্ষিণ ভারতের রামেশ্বরমের কাছে পাম্বান দ্বীপ থেকে শ্রীলঙ্কার উত্তর উপকূলের মান্নার দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পক-প্রণালীতে চুনাপাথরের যে রেখা চলে গেছে, সেটা আদতে মানব-সৃষ্ট৷ ভূ-প্রাকৃতিক নয়৷ নাসার উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি এবং অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধৃত করে পুরাতাত্ত্বিকরা প্রমাণ করেছেন, এই সেতু নির্মাণে যে শিলাখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে তার বয়স আনুমানিক সাত হাজার বছর প্রাচীন এবং তা সংগ্রহ করা হয়েছিল অন্য জায়গা থেকে৷ জানা গেছে, অগভীর সমুদ্র গর্ভস্থ বালিরাশির বয়স হবে প্রায় চার হাজার বছর৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বালি এবং পাথরের প্রাচীনত্বের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা, অর্থাৎ যে বালুরাশির ওপর শিলাখণ্ডগুলি বসানো হয়েছিল তা বালির বয়সের চেয়ে পুরনো৷ কাজেই সেটা মানুষের তৈরি৷ জানান ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিষয়ক ইতিহাসবিদ চেলসা রোজ৷ যা আবার রামায়ণের সময়কাল (আনুমানিক ৫০০০ বছর) এর দিকে ইঙ্গিত করে।

রাম সেতুর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘সেতুসমুদ্রম শিপিং ক্যানেল প্রজেক্ট’। এই প্রকল্পে রাম সেতুর একটি অংশ খনন করে মান্নার উপসাগরকে পক প্রণালীর সাথে প্রায় ৮৩ কিমি দীর্ঘ ‘ডিপ ওয়াটার চ্যানেল’ দ্বারা যুক্ত করার কথা বলা হয়। যার মূল উদ্দেশ্য উপদ্বীপীয় ভারতের উপকূল বরাবর সহজতর নৌপথ গড়ে তোলা। ব্রিটিশ শাসনকালে ১৮৬০ সালে আলফ্রেড টেলর প্রথম এইরূপ একটি নৌপথ নির্মাণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। যদিও ব্রিটিশ শাসনকালে এবিষয়ে সেরকম কোনো আগ্রহ বা অগ্রগতি দেখা যায়নি। ১৯৫৫ সালে ডঃ এ. রামাস্বামী মুদালিয়ারের নেতৃত্বে ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু) ‘সেতুসমুদ্রম প্রজেক্ট কমিটি’ গঠন করে। ওই কমিটি বিশদ অধ্যয়ন করে সুবিধা ও ব্যয় খতিয়ে দেখে এই প্রকল্পের সম্ভাবনার কথা বলে। একই সাথে ওই কমিটি রাম সেতুর ওপর চ্যানেল খননের পরিবর্তে একটি ওভারল্যান্ড প্যাসেজ খননের পরামর্শ দেয়। এরপর একাধিক কমিটি গঠিত হলেও, দীর্ঘকাল ভারত সরকার এনিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ১৯৯৭ সালে ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া) এই প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০০৩ সালে ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী) সেতুসমুদ্রম প্রকল্পের ‘Techo-Economic Feasibility (TEF) অধ্যয়নের নির্দেশ দেয়। এরপর ২০০৫ সালে ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং) এই প্রকল্পের সূচনা ঘোষণা করে। সাথেসাথেই দেশজুড়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বাধা আসে পরিবেশ সংস্থাগুলিরও তরফে। ২০০৮ সালে ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং) বিকল্প জলপথের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এক কমিটি (পাচৌরি কমিটি) গঠন করে৷ ২০১৩ সালে ওই কমিটি রিপোর্ট পেশ করে এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে সেতুসমুদ্রম প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নাকচ করে দেয়। কিন্তু তৎকালীন ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং) কমিটির রিপোর্টকে বাতিল করে পূর্ব পরিকল্পনা মতো প্রকল্প বজায় রাখার পথে হাঁটে। পরবর্তীতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়৷ এক পিটিশনে দাবি করা হয় বাল্মিকীর রামায়ণ এবং তুলসীদাসের রামচরিতমানস বর্ণিত রামসেতু ভারতের এক ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য৷ জবাবে ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং) এর পক্ষ থেকে এক হলফনামাতে বলা হয়, রাম সেতু মানব-সৃষ্ট নয়। রামায়ণ কাল্পনিক, এর কোনো সত্যতা নেই৷ এরপর দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত সরকার ওই হলফনামা বাতিল করতে বাধ্য হয়৷ তৎকালীন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী এইচ আর ভরদ্বাজ ঘোষণা করেন, ‘শ্রীরাম ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ৷ আদালতের বিচার্য বিষয় নয়৷ হিমালয় যেমন হিমালয়, গঙ্গা যেমন গঙ্গা, শ্রীরাম তেমনি শ্রীরাম৷’ ২০১৪ সালে সংসদে এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে ভারত সরকার (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) জানায়, সেতুসমুদ্রম প্রকল্পটি বিকল্প পথে বাস্তবায়িত করার কথা ভাবা হচ্ছে এবং কখনই এই প্রকল্পের জন্য রাম সেতুর কোনোরূপ ক্ষতি করা হবেনা।

রামায়ণ মহাকাব্য ভারতীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর কেন্দ্রীয় চরিত্র শ্রী রামচন্দ্র ভারতের ‘Cultural Icon’। এই যুক্তিতে একাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন রাম সেতুকে ১৯৫৮ সালে AMSAR Act এর আওতায় ‘National Monument’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ভারত সরকার জানায়, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে, তাই এনিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। সম্প্রতি ভারতের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী ও বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য সুব্রমণিয়ান স্বামী রাম সেতুকে ‘National Monument’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

রাম সেতুর সৃষ্টি কিভাবে, তা Geological এবং Geomorphological দৃষ্টিকোণে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি প্রাকৃতিক নাকি মানবসৃষ্ট — এবিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। রাম সেতুর পরিবেশগত অধ্যয়নও দরকার। রামায়ণ মহাকাব্যের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নিয়েও গবেষণা হোক। তবে মনে রাখা দরকার, রামায়ণ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, ভারতীয় সমাজ-সংস্কৃতির পরিমন্ডলে এর গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি, কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভাবাবেগের সাথে জড়িত। শ্রী রামচন্দ্র শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মের দেবতা নন, ভারতের একতা এবং ন্যায় ও সুশাসনের প্রতীক। মহাত্মা গান্ধী তাই ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। তারও আগে, ১৯০৮ সালে উর্দু ভাষার বিখ্যাত কবি মহম্মদ ইকবাল (পাকিস্তানের জাতীয় কবি) তাঁর এক কবিতায় শ্রী রামচন্দ্রকে ‘ইমাম-এ-হিন্দ’ (Spiritual Leader of India) বলেছেন — হ্যায় রাম কে ওজুদ পে হিন্দুস্তান কো নাজ / এহেল্-এ-নজর সমঝতে হ্যায় উস কো ইমাম-এ-হিন্দ। অর্থাৎ — রামের অস্তিত্বে ভারত গর্বিত, দূরদর্শী মানুষ তাঁকে ইমাম-এ-হিন্দ মনে করেন। তাই, পরিশেষে একথাই বলব, বৈজ্ঞানিক ও ভৌগোলিক গবেষণা একদিন রাম সেতু বিতর্কের অবসান ঘটাবে এবং মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামচন্দ্রের সাথে সম্পর্কিত রাম সেতুকে ভারতীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে সযত্নে সংরক্ষণ করা হোক।


লেখকঃ- অরিজিৎ সিংহ মহাপাত্র (পার্শ্বলা, বাঁকুড়া)
তথ্যসূত্রঃ- The Financial Express ; Wikipedia ; Republic World ; Discovery Science Channel ; The Hindu ; আনন্দবাজার পত্রিকা ; Deutsche Welle ; Times Now ; Business Standard

©মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া
©ভূগোলিকা-Bhugolika

Content Protection by DMCA.com
এখান থেকে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

error: মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত