মৃত্যু লালগড়ের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের, ক্ষতিগ্রস্ত হলো বাস্তুতন্ত্র

দেড়মাসের বাঘবন্দি খেলা শেষ, বাগঘরার জঙ্গলে মিলল রয়্যাল বেঙ্গলের মৃতদেহ। শুক্রবার সকালে সদর ব্লকের বাগঘরার জঙ্গলে বাঘের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। বছরের এই সময়ে শিকার উত্‍সব পালন করতে জঙ্গলে যান আদিবাসীরা। এইদিন সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের বাগঘরার জঙ্গলের কাছেই বাঘের আক্রমণে জখম হন দুজন শিকারি। এরপরই বাগঘরার জঙ্গলে উদ্ধার হল বাঘের দেহ। বন দপ্তরের অনুমান, আত্মরক্ষা করতে গিয়েই সম্ভবত বাঘটিকে মেরে ফেলেছেন আদিবাসীরা।

২ মার্চ লালগড়ের জঙ্গলে প্রথম রয়্যাল বেঙ্গলের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ে বাঘের গতিবিধি। তারপর বিগত এক-দেড়মাস ধরে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের পায় ছাপ মিলেছে। কিন্তু শত চেষ্টাতেও বাঘকে বাগে আনতে পারেনি বন দফতর।

এরপর একবার তো মেদিনীপুরের সদর ব্লকের বাগঘরার জঙ্গলে বাঘটিকে প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন আদিবাসীরা। কিন্তু, বনকর্মীর পৌঁছনোর আগেই জাল ছিঁড়ে পালিয়ে যায় বাঘ। কিন্তু সেই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় মাস।

এরপরই ১৩ই এপ্রিল শুক্রবার সকালে বাগঘরার জঙ্গলে উদ্ধার হল বাঘের মৃতদেহ। জানা গেছে, বাঘটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। বাঘের গলায় বিঁধে রয়েছে বল্লমও। অনুমান করা হচ্ছে শিকার উৎসবের সময় শিকারিদের আক্রমণেই বাঘটির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে কারণ যাই হোক না কেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলে বাঘের মৃত্যুর জন্য বন দপ্তরের ব্যর্থতাকেই দায়ি করেছেন পশুপ্রেমীরা। তাঁদের বক্তব্য বনকর্মীরা যখন নিশ্চিতই ছিলেন, বাঘটি বাগঘরার জঙ্গলেই আছে। তাহলে ওই জঙ্গলের নিরাপত্তার আরও বাড়ানো হল না কেন? আদিবাসীদের শিকার উত্‍সবেই বা কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করল বন দপ্তর? বন দপ্তরের কর্তারা অবশ্য দাবি, বাঘ ধরা না পড়া পর্যন্ত শিকার না যাওয়ার জন্য বারবার আদিবাসীদের অনুরোধ করেছিলেন তাঁরা। তাতে কোনও কাজ হয়নি।

তথ্যসূত্রঃ জি ২৪ ঘন্টা ও আনন্দবাজার পত্রিকা।। 

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 112
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    112
    Shares

মন্তব্য করুন

error: মিশন জিওগ্রাফি ইন্ডিয়া কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত